দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে প্রধান বাধা ভঙ্গুর যোগাযোগ ব্যবস্থা। বিশেষ করে বর্ষা এলে প্রান্তিক এলাকার সড়ক ও কালভার্টগুলো চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এই দুর্ভোগ দূর করার অজুহাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে ৫ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল পুনর্বাসন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। তবে প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয়ের বিবরণী খতিয়ে দেখে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নথি অনুযায়ী, ৫,২২৩ কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক এবং ৭,০০০ মিটার ব্রিজ-কালভার্ট মেরামতের লক্ষ্য নিয়ে তৈরি এই প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০৩০ সাল পর্যন্ত। তবে বিপত্তি বেঁধেছে এর খরচ প্রাক্কলন নিয়ে। ৫ হাজার কিলোমিটার পুরনো রাস্তা সংস্কারেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩,৮৯৩ কোটি টাকা। হিসাব কষলে দেখা যায়, প্রতি কিলোমিটার সড়ক মেরামতেই খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ৮০ লাখ টাকা—যা দিয়ে একটি নতুন পরীক্ষিত সড়ক তৈরি করা সম্ভব। আরও বিস্ময়কর বিষয়, মাত্র ১০ মিটার কালভার্ট মেরামতের ব্যয় দেখানো হয়েছে সোয়া কোটি টাকা!
মেরামত কাজের পাশাপাশি আনুষঙ্গিক কেনাকাটার নামেও রয়েছে বিপুল অঙ্কের বরাদ্দের আবদার:
বিলাসিতার তদারকি: তদারকির অজুহাতে ৮০টি কম্পিউটার, ৩০ লাখ টাকার বিশেষ সফটওয়্যার এবং দুটি জিপ গাড়ি কেনার প্রস্তাব।
যানবাহন বহর: ঠিকাদারি কাজের নিয়ম পাশ কাটিয়ে ৭৭ কোটি টাকায় ৬৪টি রোড রোলার ও ১৪০টি মোটরসা1ইকেল ক্রয়ের পরিকল্পনা।
অতিরিক্ত ফি: পরিচালনা ও মণিহারি বাবদ সাড়ে ৪ কোটি এবং পরামর্শকদের ফি বাবদ রাখা হয়েছে ১৪ কোটি টাকা।
সাবেক পরিকল্পনা সচিব মামুন আল রশীদ মনে করেন, এ ধরনের অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা ও মাত্রাতিরিক্ত ব্যয় সরকারের বিদ্যমান কৃচ্ছ্রসাধন নীতির পুরোপুরি বিপরীত। তদারকির সুযোগ নিয়ে সংস্থাগুলো এমন অযৌক্তিক আবদার করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সূত্র : একাত্তর টেলিভিশন।


