কক্সবাজারের রামুর হিমছড়ি ও উখিয়ার বিভিন্ন রিসোর্টে আস্তানা গেড়ে আন্তর্জাতিক চক্রের মাধ্যমে সংগঠিত অনলাইন আর্থিক প্রতারণার অভিযোগে ৬ জন চীনা ও তাইওয়ানিজ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্তত আড়াইশ থেকে ৩০০ জন বিদেশি নাগরিককে আসামি করে রামু থানায় একটি সাইবার মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশের এজাহার সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজারের হিমছড়ি ও উখিয়ার ইনানী সংলগ্ন ‘মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্ট’, ‘ড্রীম হলিডে রিসোর্ট’, ‘অরকিড-ব্লু রিসোর্ট’ এবং ‘ইলিয়াস ব্রাদার্স’ নামক একাধিক রিসোর্ট ও ভবন ভাড়া নিয়ে অবস্থান করছিল এই বিদেশি চক্রটি। বাবর আলী (প্রকৃত নাম: Zhan Yuan Fan) নামের এক চাইনিজ নাগরিকের নেতৃত্বে এবং অন্যান্য সহযোগীদের মাধ্যমে ভুয়া কনস্ট্রাকশন কোম্পানির দোহাই দিয়ে রিসোর্টগুলোর পুরো নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় তারা।
আইন অনুযায়ী স্থানীয় ডিএসবি (জেলা বিশেষ শাখা)-কে পাসপোর্ট ও ভিসার তথ্য সরবরাহের নিয়ম থাকলেও তারা কোনো কাগজপত্র জমা দেয়নি। পরবর্তীতে যৌথ অভিযানে রিসোর্টের হল রুমে বিশালাকার কম্পিউটার ল্যাব ও ৬টি সাউন্ডপ্রুফ রুমের সন্ধান পায় যৌথ বাহিনী।
গত ২৫ আগস্ট হিমছড়ির মেরিনা বিচ ভিলা রিসোর্টে অভিযান চালায় পুলিশ ও বিশেষ গোয়েন্দা সংস্থা। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে অভিযুক্তরা বিচ এলাকা দিয়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সেখানে তল্লাশি চালিয়ে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত ১৯৩৮টি আইফোন (Iphone SE2 মডেলের বিভিন্ন রঙের), ৫০টি মনিটর, ২টি ল্যাপটপ, ৪৪টি সিপিইউ, ৩০টি কি-বোর্ড, ৪০টি মাউস, চীনা পুলিশের ২টি র্যাংক ব্যাজ, ১টি লোগোযুক্ত টাই এবং ২টি চাইনিজ জাতীয় পতাকা সহ প্রচুর ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
ঘটনার পর ২৬ আগস্ট ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল এবং ২৮ আগস্ট কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-এর একটি উচ্চপর্যায়ের দল দুর্ঘটনাস্থল ও কম্পিউটার ল্যাব পরিদর্শন করে।
সিটিটিসির মতে, চক্রটি কৃত্রিম বাজার বিশ্লেষণ, ক্লোন বা ভুয়া ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মে অর্থ জমা এবং এক্সিট ফ্রডের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ ও অনলাইন ভিত্তিক সংঘবদ্ধ অপরাধে জড়িত।
পরবর্তীতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কক্সবাজারের কলাতলী ও সুগন্ধা এলাকার দুটি হোটেল থেকে ৬ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে জেলা ডিবি ও রামু থানা পুলিশ।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন, উই চিং ওয়েন, শু ইয়াংফান, ইয়ান চাংশেং, শু হাইয়াং, উ জিয়ানশিয়ং ও ঝাং ঝেমিং। পলাতক চারজন হলেন ঝান ইউয়ান ফান ওরফে বাবর আলী, পাই লেডিং, উ ঝিপিং ও জিয়ান ঝাং।
রামু থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মিন্টু দত্ত বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃত ৬ জন, পলাতক ৪ জন এবং অজ্ঞাতনামা ২৫০-৩০০ জন চাইনিজ ও তাইওয়ানিজ নাগরিকের বিরুদ্ধে সাইবার সুরক্ষা আইন ২০২৬-এর বিভিন্ন ধারায় মামলা রুজু করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


