এন.এ সাগর :
কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের বেংডেবা গ্রামে যেন উন্নয়ন এখনো অধরা। ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের এই গ্রামে প্রায় শতাধিক পরিবার দীর্ঘদিন ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে নানা ভোগান্তি নিয়ে বসবাস করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও গ্রামের মানুষের প্রধান দাবি মাত্র দুই কিলোমিটার সড়ক ও কয়েকটি ছোট সেতু নির্মাণের বিষয়টি এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করেও তারা কাঙ্ক্ষিত সমাধান পাননি বলে জানান।
গ্রামবাসীরা বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় অসুস্থ রোগী ও গর্ভবতী নারীদের। বর্ষার সময়ে কাদা, পানি ও ভাঙা পথ পেরিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। জরুরি রোগীদের অনেক সময় বহন করে নিয়ে যেতে হয়, এতে চিকিৎসা পেতে দেরি হয়।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের এই যোগাযোগ সংকটের কারণে অনেক মানুষ সময়মতো চিকিৎসা নিতে না পেরে প্রাণ হারিয়েছেন।
বেংডেবা গ্রামের মানুষ কৃষিকাজের ওপরও নির্ভরশীল। এখানে উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য বাজারে নিতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়েন কৃষকরা। ভালো যোগাযোগ না থাকায় পরিবহন খরচ বেড়ে যায় এবং অনেক সময় ন্যায্য দাম থেকেও বঞ্চিত হতে হয়।
শুধু কৃষক নয়, শিক্ষার্থীদের জন্যও এই পথ বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ রাস্তা পার হয়ে স্কুল-কলেজে যেতে হয় তাদের। বিশেষ করে বর্ষাকালে পড়াশোনার স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয় বলে জানান শিক্ষার্থীরা।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী আবুল হাসনাত আল-আমিন বলেন, “আমরা ছোটবেলা থেকেই এই সমস্যার মধ্যে বড় হয়েছি। রাস্তা, বিদ্যুৎ ও ভালো নেটওয়ার্ক সুবিধা না থাকায় গ্রামের মানুষ অনেক পিছিয়ে আছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি চট্টগ্রামের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মিয়া বলেন, “রামুর অনেক এলাকায় উন্নয়ন হয়েছে, কিন্তু আমাদের গ্রাম এখনো মৌলিক সুবিধার বাইরে। কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ, দীর্ঘদিনের এই সমস্যার সমাধান করা হোক।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ নিতে গেলে বন বিভাগের আপত্তির মুখে পড়তে হয়। তাদের দাবি, মানুষের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় এই সড়কটি নির্মাণ করা হলে এলাকার জীবনযাত্রায় বড় পরিবর্তন আসবে।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য একরামুল হক বাবুল বলেন, “এই রাস্তা দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রায় একশ বছরের বসতি থাকা সত্ত্বেও মানুষ এখনো কষ্ট করে চলাচল করছে। রোগী নিয়ে যেতে গেলে অনেক সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিলে সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
জোয়ারিয়ানালা বিট অফিসের বাদন ধর জানান, বনাঞ্চলের গাছপালা রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তারা রাস্তা নির্মাণের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। রাস্তা হলে বনভূমির ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল শামশুদ্দিন আহাম্মদ প্রিন্সের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, গ্রামের বাসিন্দাদের দাবি—মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় সড়ক ও সেতু নির্মাণের পাশাপাশি দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ নিশ্চিত করা হোক। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের অবহেলার অবসান ঘটিয়ে বেংডেবা গ্রামও উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত হবে।


