উচ্ছ্বাস বড়ুয়া :
কক্সবাজারের নামকরণের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ব্রিটিশ কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের ছবি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত বিতর্কিত ছবিটি সরিয়ে নিয়েছে প্রশাসন।
রামুর ঐতিহাসিক ক্যাপ্টেন কক্সের বাংলোর গেইটে প্রদর্শিত ওই ছবিটি নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তবে গেইট থেকে ছবি সরানো হলেও বাংলোর ভেতরের দেয়ালে থাকা তথ্যচিত্রে এখনো দেখা যাচ্ছে একই ছবি।
বিষয়টি প্রথম সামনে আসে ইতিহাস গবেষক অ্যাডভোকেট শিরুপন বড়ুয়ার লেখা ‘রামুর ইতিহাস’ বইয়ের মাধ্যমে। এরপর বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে প্যানোয়া নিউজ। অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর ছবিটি নিয়ে বিতর্ক নতুন করে আলোচনায় আসে এবং প্রশাসনের নজরে যায়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘদিন ধরে ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের ছবি হিসেবে ব্যবহৃত ছবিটি আসলে ক্যাপ্টেন কক্সের নয়। এটি আমেরিকান নাগরিক বেঞ্জামিন হিরাম কক্সের ছবি বলে দাবি করা হয়।
ইতিহাস অনুযায়ী, ক্যাপ্টেন হিরাম কক্স ছিলেন ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্মকর্তা। তিনি ১৭৬০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৭৯৯ সালে রামুতে দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যুবরণ করেন।
অন্যদিকে, বিতর্কিত ছবিটির ব্যক্তি বেঞ্জামিন হিরাম কক্স ছিলেন আমেরিকান নাগরিক। তার জন্ম ১৮৫১ সালে এবং মৃত্যু ১৯০৯ সালে। অর্থাৎ দুই ব্যক্তি ছিলেন ভিন্ন সময়ের ও ভিন্ন পরিচয়ের।
এছাড়া গবেষণায় বলা হয়, ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের মৃত্যুর সময় ১৭৯৯ সালে ক্যামেরার প্রচলন ছিল না। তাই পরবর্তী সময়ের তোলা কোনো ছবি তার ছবি হিসেবে ব্যবহৃত হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে এবং যাচাই-বাছাই শেষে ক্যাপ্টেন কক্সের বাংলোর গেইট থেকে বিতর্কিত ছবিটি সরিয়ে নেয়।
তবে গেইট থেকে ছবি সরিয়ে নেওয়ার পরও পুরোপুরি শেষ হয়নি বিষয়টি। বাংলোর ভেতরের তথ্যচিত্রে এখনো ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের ছবি হিসেবে ব্যবহৃত সেই ছবিটি রয়েছে।
রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান জানান, ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের ছবি নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। ছবিটি সঠিক না হলে সরকারি পর্যায়ে এর ব্যবহার বন্ধ করা হবে। পাশাপাশি সঠিক ইতিহাস তুলে ধরতে গবেষক ও ইতিহাসবিদদের সহযোগিতা নেওয়া হবে এবং ঐতিহাসিক বাংলো সংরক্ষণে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইতিহাসপ্রেমী ও স্থানীয়দের দাবি, যেহেতু ছবিটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তাই যাচাই-বাছাই শেষ না হওয়া পর্যন্ত এর ব্যবহার বন্ধ রাখা উচিত। কক্সবাজারের ইতিহাসের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রকৃত তথ্য সংরক্ষণ করে তা মানুষের সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানান তারা।
কক্সবাজারের নামের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ক্যাপ্টেন হিরাম কক্সের ইতিহাস এখন নতুন করে আলোচনায়। সত্যতা যাচাই করে সঠিক ইতিহাস সংরক্ষণই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান প্রত্যাশা।


