ক্ষমতার সমীকরণ পরিবর্তনের সাথে সাথে রাজনৈতিক পরিচয় বদল, আর সুযোগ বুঝে ফের পুরানো অবস্থানে ফেরা—মিজানুর রহমান নামের এক তরুণের এই ‘ঘনঘন পল্টিবাজি’ এখন রামু জুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এমন রূপ বদল নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে তীব্র সমালোচনা ও হাস্যাস্পদ প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, রামুর কাউয়ারখোপ ইউনিয়নের লট উখিয়ার ঘোনার টেইলা পাড়া এলাকার বাসিন্দা মিজানুর রহমান বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রামু উপজেলা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন।
তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দ্রুতই নিজের রাজনৈতিক অবস্থান বদলে ফেলেন তিনি। এলাকায় নিজের ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রভাব টিকিয়ে রাখতে তিনি রাতারাতি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও বিএনপির রাজনীতির দিকে ঝুঁকে পড়েন। সে সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিএনপির পক্ষে নানা ধরনের প্রচারণা ও পোস্ট দিতে দেখা যায় তাকে। এমনকি জাতীয় নির্বাচনেও বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় নামতে দেখা গেছে এই তরুণকে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক নীতি-নৈতিকতা বাদ দিয়ে কেবল ব্যক্তিগত স্বার্থ ও ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে যারা এভাবে মিনিটে মিনিটে দল পাল্টায়, তারা কোনো দলেরই বিশ্বস্ত হতে পারে না।
অবস্থা বেগতিক দেখে এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সুযোগ বুঝে গত কয়েকদিন ধরে মিজানুর রহমান পুনরায় ফেসবুকে আওয়ামী লীগের সমর্থনে পোস্ট দিতে শুরু করেছেন। হুট করে এই রূপ পরিবর্তনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃষ্টি হয়েছে সমালোচনার ঝড়।
অনেকেই তার আগের ও বর্তমান ফেসবুক পোস্টের স্ক্রিনশট এবং ছবি একসাথে শেয়ার করে তাকে বিদ্রূপ ও হেয় প্রতিপন্ন করছেন। সুবিধাবাদী রাজনীতির এই চরম দৃষ্টান্ত নিয়ে নেটিজেনদের মাঝে ট্রোল ও কড়া প্রতিক্রিয়ার যেন শেষ নেই।


