Homeরাজনীতিস্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রভাবের আভাস, দুশ্চিন্তায় সিইসি

স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় প্রভাবের আভাস, দুশ্চিন্তায় সিইসি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার A M M Nasir Uddin। তাঁর ভাষায়, নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হওয়ার কথা থাকলেও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যে নিজেদের প্রার্থীদের মনোনয়ন ঘোষণা শুরু করেছে। বিষয়টি তাঁকে চিন্তায় ফেলেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সিইসি। নির্বাচন কমিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)-এর নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক এবং বিদায়ী কমিটিকে সংবর্ধনা উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ইকরাম-উদ-দৌলা।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিইসি বলেন, শুধু নির্বাচন কমিশনের চেষ্টায় সুষ্ঠু ভোট সম্ভব নয়; এ জন্য সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর আন্তরিক সহযোগিতা জরুরি। অতীতের স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোর প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, কোথাও কোথাও ভয়াবহ সহিংসতাও ঘটেছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, টেঁটা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ পর্যন্ত হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, একই এলাকার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে সিইসি বলেন, প্রয়োজনে তারা যেন নিজেদের মধ্যে বসে সমঝোতায় পৌঁছায়। কারণ, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আর কোনো রক্তপাত দেখতে চান না তিনি। তাঁর প্রত্যাশা একটি শান্তিপূর্ণ, সংঘাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন।

সিইসি আরও বলেন, একটি নির্বাচন ভালো হলেই পুরো নির্বাচনব্যবস্থা ভালো হয়ে গেছে এমন ভাবার সুযোগ নেই। নির্বাচনকে ঘিরে একটি সুস্থ সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চান তাঁরা। তাঁর লক্ষ্য, শতভাগ স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিশ্চিত করা।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলেও জানান তিনি। যেহেতু এবার দলীয় প্রতীক ছাড়া ভোট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাই নির্বাচন কমিশনকে কিছু নিয়ম ও বিধিমালা সংশোধনের কাজ করতে হবে। সেই প্রক্রিয়া শেষ হলে সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসবে ইসি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় হুইপ Mia Nur Uddin Ahmed Apu, Bangladesh Jamaat-e-Islami এর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল A H M Hamidur Rahman Azad এবং এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক Nasiruddin Patwari।

বক্তব্য দিতে গিয়ে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী অভিযোগ করেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্যাপক ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’ হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একজন প্রার্থী হিসেবে নিজের নির্বাচনী এলাকায় তিনি নানা অসঙ্গতি প্রত্যক্ষ করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, একই ধরনের ভোট নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন আসনে আলাদা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এমনকি নির্বাচনের দিন গোয়েন্দা সংস্থা ও প্রশাসনের কিছু অংশ কীভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছে, সেটিও দেশবাসী দেখেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এসব তথ্য আন্তর্জাতিক মহলেও তুলে ধরা হয়েছে বলেও দাবি করেন পাটোয়ারী।

অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতা হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, বাইরে থেকে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ মনে হলেও পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি ছিল। তাঁর মতে, শুধু ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু হলেই নির্বাচন গ্রহণযোগ্য হয় না; ফলাফল ঘোষণার ক্ষেত্রেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হয়। কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচনকে পুরোপুরি সুষ্ঠু বলা যাচ্ছে না বলে আক্ষেপ করেন তিনি।

পরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিইসি নাসির উদ্দীন বলেন, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন কেমন হয়েছে, সেটি দেশের মানুষ, সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকেরা নিজেরাই দেখেছেন। তাই তিনি ব্যক্তিগতভাবে সে নির্বাচনের মূল্যায়নে যেতে চান না।

তবে নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারীর বক্তব্য নিয়ে কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখাননি সিইসি। বরং তিনি বলেন, পাটোয়ারী যা অনুভব করেছেন এবং বিশ্বাস করেছেন, সেটিই প্রকাশ করেছেন। আর মত প্রকাশের এই স্বাধীনতাই গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। তাঁর বক্তব্যে তিনি ব্যক্তিগতভাবে আহত হননি বলেও স্পষ্ট করেন সিইসি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments