যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের কাছে পাঁচ দফা শর্ত তুলে ধরা হয়েছে, তবে সেই প্রস্তাবে সন্তুষ্ট নয় তেহরান। চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে আলোচনার জন্য ইরান যে নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছিল, তার জবাবে ওয়াশিংটন কোনো বড় ধরনের ছাড় দিতে আগ্রহ দেখায়নি।
ইরানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের বরাতে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো গত রোববার এ তথ্য প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছালে ইরানকে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতে পারে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার অচলাবস্থা কাটাতে পাকিস্তানসহ কয়েকটি মধ্যস্থতাকারী দেশ সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী Shehbaz Sharif ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, খুব শিগগিরই ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের মধ্যে দ্বিতীয় দফার সরাসরি বৈঠক হতে পারে। একই সময়ে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন নাকভি দুই দিনের সফরে তেহরানে পৌঁছান।
যুদ্ধ শুরুর প্রায় ৪০ দিন পর, গত ৮ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। এরপর পাকিস্তানের রাজধানী Islamabad এ দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে টানা ২০ ঘণ্টারও বেশি সময় বৈঠক চলে। তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
তারপর থেকেই নতুন বৈঠকের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ সময়ের মধ্যে ওয়াশিংটন ও তেহরান একাধিক পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব বিনিময় করলেও শর্ত নিয়ে মতবিরোধ থাকায় দ্বিতীয় দফার আলোচনা এখনো শুরু হয়নি।
এদিকে গতকাল United Arab Emirates এর একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার পর কেন্দ্রটির একটি জেনারেটরে আগুন ধরে যায়। যদিও এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
অপরদিকে, Qatar ও Saudi Arabia এর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ফোনালাপে ইরানসহ আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন। একই দিনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ফোনে কথা বলেন Benjamin Netanyahu এর সঙ্গে। আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলা ওই আলাপে ইরানকে ঘিরে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক চীন সফরের বিষয়ও উঠে আসে।



