Homeআন্তর্জাতিকট্রাম্পের সফর শেষে পুতিনকে বরণ, কী বার্তা দিচ্ছে চীন?

ট্রাম্পের সফর শেষে পুতিনকে বরণ, কী বার্তা দিচ্ছে চীন?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফর শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে রাষ্ট্রীয় সফরে বেইজিংয়ে স্বাগত জানিয়েছে চীন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় দুই দিনের সফরে চীনের রাজধানীতে পৌঁছালে বিমানবন্দরে তাকে অভ্যর্থনা জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এটি পুতিনের ২৫তম চীন সফর, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আয়োজন নয়; বরং বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের শক্ত অবস্থান তুলে ধরার একটি স্পষ্ট বার্তা। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও পুতিনের ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক যে আগের চেয়েও গভীর হয়েছে, সেটিও নতুন করে সামনে এসেছে।

দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা দেশগুলো চীনের কাছে রাশিয়ার ওপর চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তবে বেইজিং সেই পথে না গিয়ে উল্টো মস্কোর সঙ্গে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করছে। ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দুই দেশের বাণিজ্য, জ্বালানি সহযোগিতা এবং কূটনৈতিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

এমন এক সময় পুতিনের এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন ইরানকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উত্তেজনা বাড়ছে এবং সাম্প্রতিক ট্রাম্প-শি বৈঠক থেকেও বড় ধরনের কোনো অগ্রগতি আসেনি। ফলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঠিক এই মুহূর্তে পুতিনকে বেইজিংয়ে আমন্ত্রণ জানানো বিশ্ব রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সংকেত বহন করছে।

সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো চীন ও রাশিয়া যৌথভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং এর নিয়ন্ত্রণ কাঠামো তৈরিতে একসঙ্গে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছে। একই সঙ্গে ২০০১ সালে স্বাক্ষরিত দুই দেশের ‘সুপ্রতিবেশী ও বন্ধুত্বপূর্ণ সহযোগিতা চুক্তি’র ২৫ বছর পূর্তিকেও এই সফরের মাধ্যমে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

এ পর্যন্ত শি জিনপিং ও পুতিনের মধ্যে ৪০টিরও বেশি বৈঠক হয়েছে, যা শি’র সঙ্গে কোনো পশ্চিমা নেতার বৈঠকের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে। এতে বোঝা যায়, দুই দেশের রাজনৈতিক যোগাযোগ কতটা নিবিড় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপ’-এর জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং মনে করেন, অল্প সময়ের ব্যবধানে বিশ্বের দুই প্রভাবশালী নেতাকে আতিথেয়তা দেওয়ার মাধ্যমে চীন তার কূটনৈতিক আত্মবিশ্বাসের পরিচয় দিচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, শি জিনপিং ওয়াশিংটনকে এই বার্তাই দিতে চাইছেন যে, চীনের এখনো শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য মিত্র রয়েছে।

অন্যদিকে ইউক্রেইন যুদ্ধে প্রত্যাশিত সাফল্য না আসায় রাশিয়ার ভেতরেও পুতিনের ওপর চাপ বাড়ছে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তীব্র হওয়ায় চীনের ওপর মস্কোর নির্ভরশীলতাও ক্রমেই বাড়ছে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। এতে দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও অসম ভারসাম্যের দিকে যাচ্ছে বলেও মত দিয়েছেন অনেকে।

সফরের আগে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় পুতিন বলেন, বর্তমান সময়ে চীন-রাশিয়া সম্পর্ক “অভূতপূর্ব উচ্চতায়” পৌঁছেছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ডলারের বদলে রুবল ও ইউয়ানে লেনদেন বৃদ্ধি এবং নাগরিকদের জন্য সহজ ভ্রমণ ব্যবস্থার বিষয়টিও তুলে ধরেন।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন জানিয়েছেন, শি জিনপিং ও পুতিনের নেতৃত্বে দুই দেশের বন্ধুত্ব ভবিষ্যতে আরও গভীর হবে এবং জনগণের মধ্যেও এই সম্পর্কের ভিত্তি আরও শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments