প্রতিবেদক : উচ্ছ্বাস বড়ুয়া, কক্সবাজার।
অহিংসা, পরোপকার এবং প্রকৃতি ও প্রাণিকুলের সাথে মানুষের সুষম সহাবস্থানের বার্তা নিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র মধু পূর্ণিমা আজ যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হচ্ছে। ভাদ্র মাসের এই পূর্ণিমা তিথিটি বৌদ্ধ ইতিহাসে ‘ভাদ্র পূর্ণিমা’ নামেও বিশেষভাবে পরিচিত।
দিনটি উপলক্ষে আজ সকাল থেকেই রামুসহ দেশের বিভিন্ন বৌদ্ধ বিহারে নানা মাঙ্গলিক ও ধর্মীয় কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। পুণ্যার্থীরা বিহারে গিয়ে বুদ্ধ পূজা, শীল গ্রহণ, প্রদীপ প্রজ্বলন, সংঘদান এবং বিশেষ প্রার্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও মধু দানের মহাকাব্যিক উপকথা:
মধু পূর্ণিমার পেছনের ইতিহাসটি মানবপ্রেম ও প্রকৃতির অনন্য মেলবন্ধনের এক অনুপম দৃষ্টান্ত। আড়াই হাজার বছর আগে কোশাম্বী নগরের ঘোষিতারাশ্রমে ভিক্ষু সংঘের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে, মহামতি গৌতম বুদ্ধ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একা পারালৈয়্য (পার্লেও্য) অরণ্যে চলে যান।
সেখানে গভীর অরণ্যে বন্য হাতি এবং একটি বানর পরম ভক্তি ও নিষ্ঠার সাথে বুদ্ধের সেবাযত্ন করতে শুরু করে। হাতিটি যেমন বুদ্ধের জন্য সুমিষ্ট ফল সংগ্রহ করত, তেমনি বনের একটি বানর গভীর আনন্দের সাথে একটি মৌচাক সংগ্রহ করে বুদ্ধের হাতে সশ্রদ্ধচিত্তে তুলে দেয়। বুদ্ধ সেই মধু গ্রহণ করার পর বানরটি আনন্দে আত্মহারা হয়ে গাছে লাফালাফি করতে গিয়ে দুর্ঘটনা পতিত হয় এবং পরবর্তী সময়ে সেই সৎকর্মের পুণ্যফলে স্বর্গে দেবপুত্র হিসেবে জন্ম নেয়। এই ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর ভাদ্র পূর্ণিমায় বৌদ্ধরা ভিক্ষু সংঘকে বিশেষভাবে মধু ও মধুযুক্ত ফল দান করে থাকেন।
সাম্প্রতিক তাৎপর্য ও মানবকল্যাণের বাণী:
মধু পূর্ণিমা কেবল একটি আচার-অনুষ্ঠান নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, অহিংসা এবং ত্যাগের মহিমায় বলীয়ান হওয়ার দিন। বর্তমান অশান্ত ও হানাহানিপূর্ণ বিশ্বে এই পূর্ণিমার শিক্ষা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বুদ্ধের বাণী— “জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক”—এই আদর্শকে ধারণ করে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং বিশ্বশান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয় আজকের এই দিনে।
উৎসবকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিহারগুলোতে পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রেখে সকলে মিলে দিনটি আনন্দমুখর পরিবেশে উদযাপন করছেন।


