Homeকক্সবাজারএক পশলা বৃষ্টিতেই অচল খুনিয়াপালং–কেচুনিয়া সড়ক, দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ

এক পশলা বৃষ্টিতেই অচল খুনিয়াপালং–কেচুনিয়া সড়ক, দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ

এন.এ. সাগর :

কক্সবাজারের রামু উপজেলার খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর খুনিয়াপালং থেকে ২ নম্বর ওয়ার্ডের কেচুনিয়া পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে জমে যায় কাদা ও পানি। ফলে প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ১০ হাজার মানুষের চলাচলের একমাত্র এই সড়কটি প্রায় অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুম এলেই সড়কটির অবস্থা আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বড় বড় গর্ত, কাদামাটি ও ভাঙাচোরা অংশের কারণে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। অনেককে জুতা হাতে নিয়ে কাদার মধ্যে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হয়। ভারী বৃষ্টির সময় মোটরসাইকেল, অটোরিকশাসহ ছোট যানবাহনের চলাচলও প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। এতে জরুরি রোগী পরিবহনেও দেখা দেয় ভোগান্তি।

স্থানীয় বাসিন্দা আবু ছৈয়দ, ওবাইদুল হক ও শামসুল আলম বলেন, ঘর থেকে পরিষ্কার পোশাক পরে বের হলেও কিছু দূর যেতেই জুতা খুলে হাতে নিতে হয়। প্রতিদিনের এই দুর্ভোগে সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীরা।

খুনিয়াপালং একতা ও সমাজকল্যাণ সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সোহেল বলেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই উত্তর খুনিয়াপালং থেকে কেচুনিয়া সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনেও এর স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, সম্প্রতি সংগঠনের উদ্যোগে বালির বস্তা ফেলে সাময়িকভাবে পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতা পেলে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হতো।

স্থানীয়দের দাবি, নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা সড়কটি দ্রুত সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও নির্বাচন শেষে সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন আর দেখা যায় না। ফলে বছরের পর বছর একই দুর্ভোগ বহন করতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।

খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য মেম্বার প্রার্থী বেলাল উদ্দীন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটির বেহাল চিত্র ফুটে ওঠে। জনগণের সমর্থনে নির্বাচিত হতে পারলে সড়কটিতে ব্রিক সলিং করে চলাচলের উপযোগী করাকে তিনি অগ্রাধিকার দেবেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদীন বাবুলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সংযোগ না পাওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হক কোম্পানি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলেন না। লিখিত আবেদন পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্ট সদস্যকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments