রবিউল হোছাইন বাবু, রামু।
রামুর ঐতিহ্যবাহী বাঁকখালী নদী এখন পরিণত হয়েছে আবর্জনার ভাগাড়ে। হাটবাজার, দোকানপাট ও বসতবাড়ির ময়লা-আবর্জনা প্রতিনিয়ত নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ফেলায় মারাত্মক দূষণের শিকার হচ্ছে নদীটি। পরিবেশবিদ ও নদী বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে অচিরেই বাঁকখালীর জীববৈচিত্র্য ও স্বাভাবিক নাব্যতা ধ্বংস হয়ে যাবে।
রোববার (২৪ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, রামুর ফকিরা বাজারের পূর্বপাশের বাঁশবাজার, হাইটুপী হিন্দু শ্মশানঘাট এবং ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন বাঁকখালী নদীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশেষ করে ফকিরা বাজারের বর্জ্য নিয়মিত নদীতে নিক্ষেপ করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা বিমল বড়ুয়া বলেন, “এখানে দুর্গন্ধে থাকা যায় না। বাজার কমিটিকে বারবার বলার পরও নদীতে ময়লা ফেলা বন্ধ হচ্ছে না। আমার ছোট নাতি আছে, সে প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে।”
পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষায় কাজ করা সংগঠন বেলা চট্টগ্রাম অঞ্চলের সমন্বয়কারী মনিরা পারভিন বলেন, “বাঁকখালী নদীর দূষণ ও দখল নিয়ে বেলার পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে একটি মামলা আছে। আমরা যেহেতু লিগ্যাল অর্গানাইজেশন, আমরা খুব বেশি হলে মামলা করতে পারি,সরকারকে চিঠি দিতে পারি। এক্ষেত্রে স্থানীয় কমিউনিটি কিছু উদ্যোগ নিতে পারে। ঈদের পর এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবো আমরা।”
অন্যদিকে পরিবেশ ও নদী বিশেষজ্ঞ চট্টগ্রামের অলিউর রহমান বলেন,” হাটবাজার, দোকানপাটের প্লাস্টিকগুলো নদী বা খালে ফেলা আমাদের দেশে রেওয়াজ হয়ে গেছে। প্লাস্টিককে মাছ খাদ্য মনে করে খেয়ে ফেলে। যদি একবার মাছ প্লাস্টিক খায়, তাহলে মাছের জীবন চক্র ধ্বংস হয়ে যায়। সেসাথে মাছের প্রজনন ক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায় এবং সে মরে যায়। মরার আগে মাছের বিভিন্ন চর্মরোগ হয়। এই চর্মরোগটি অন্যদের মধ্যেও ছড়ায়। এই প্রক্রিয়ার কারণেই আমাদের দেশীয় প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে এবং অনেকটা বিপরীত স্রোতে যে কয়েকটা প্রজাতির মাছ টিকে আছে ; সেটাও প্রজনন ক্ষমতা হারানোর কারণে দিনদিন বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে বুড়িগঙ্গার মতো বাঁকখালী নদীতে আর কোনো স্বাভাবিক মাছ থাকবে না। জীববৈচিত্র্য রক্ষার্থে দ্রুত দখল ও দূষণ বন্ধ করতে হবে। সাধারণত নদীর তীরে নিজস্ব ধারার কিছু গাছ থাকে; সেটা কোথাও ৫০, কোথাও ১০০-১৫০ প্রজাতির। এই গাছগুলোর পাতা,ফল হচ্ছে মাছের খাদ্য। আমরা নদীর তীরকে সংরক্ষণ করে দেশীয় প্রজাতির গাছ লাগাতে পারি এবং প্লাস্টিক, রাসায়নিক বর্জ্যমুক্ত নদী করতে পারি তাহলে জীববৈচিত্র্য থাকবে নাহয় চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে।
স্থানীয় বিএনপি নেতা মিথুন বড়ুয়া বোথাম বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সারা দেশে আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের একটি বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য পানিসম্পদ সংরক্ষণ, সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও জলাবদ্ধতা নিরসন। কিন্তু সম্প্রতি বাঁকখালীর বিভিন্ন স্থানে যেভাবে ময়লা ফেলা হচ্ছে, তা নিঃসন্দেহে সামাজিক অপরাধ। আমি মনে করি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
এ বিষয়ে ফকিরা বাজার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদল মুঠোফোনে বলেন, “বিষয়টি আমি এখন জানতে পেরেছি। প্রশাসনের নির্ধারিত স্থান থাকার পরও কেউ যত্রতত্র ময়লা ফেললে সমিতির পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমানকে একাধিকবার মুঠোফোন যোগাযোগ করা হলেও ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।



