রায়হান উদ্দিন মাহিম, রামু।
কক্সবাজারের রামু উপজেলার কলঘর বাজার পশুর হাটে সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চলছে প্রকাশ্য হাসিল বাণিজ্য। বিধি অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে হাট পরিচালনা ও হাসিল আদায়ের কথা থাকলেও, বাস্তবে তা চলে গেছে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে। অভিযোগ উঠেছে, চাকমারকুল ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী উপজেলা প্রশাসনের রশিদ বই ব্যবহার করে এই হাসিল উত্তোলন করছেন।
প্রশাসনের এই রহস্যজনক নীরবতা ও তদারকির অভাবে সাধারণ ক্রেতা-বিক্রেতাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলে প্রশ্ন উঠেছে—হাটের এই বিপুল পরিমাণ অর্থ কি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা হবে, নাকি চলে যাবে প্রভাবশালী মহলের পকেটে?
নিয়মের তোয়াক্কা নেই, আদায় হচ্ছে দ্বিগুণ হাসিল
সংশ্লিষ্টদের দাবি, চলতি মৌসুমে কলঘর হাটে প্রায় ৫ হাজার গরু বিক্রি হতে পারে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি গরুর বিপরীতে ১ হাজার টাকা হাসিল নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। সে হিসাবে এবার হাসিল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়ানোর কথা প্রায় ১ কোটি টাকা।
তবে মাঠপর্যায়ের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। অভিযোগ রয়েছে:
ক্রেতা এবং বিক্রেতা—উভয় পক্ষ থেকেই নিয়মবহির্ভূতভাবে এই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিবাদ করলে সাধারণ ক্রেতা ও খামারিদের নানাভাবে হেনস্তা করার অভিযোগও উঠেছে।
প্রশাসনের রশিদ, নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক নেতা
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে প্রশাসনের নামে অনুমোদিত রশিদ বই ব্যবহার করে প্রায় ৩০০ যুবক এই টাকা তুলছে। স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানেই এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে। সরকারি লোগো ও সিলযুক্ত রশিদ ব্যবহার করে এভাবে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রশাসনের খাতা-কলম ব্যবহার করে যদি রাজনৈতিক কর্মীরা টাকা তোলে, তবে সাধারণ মানুষ কার কাছে বিচার চাইবে? হাটে কোনো শৃঙ্খলা নেই, চারদিকে শুধু জোরজুলুম চলছে।
রাজস্ব ফাঁকির আশঙ্কা, প্রশ্নের মুখে প্রশাসন
সরকারি তদারকি না থাকায় এবং উপজেলা প্রশাসনের “রহস্যজনক নীরবতার” কারণে সরকারি বিপুল পরিমাণ রাজস্ব বেহাত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এই বিশাল অংকের টাকা যথাযথভাবে সরকারি রাজস্ব খাতে জমা হবে কি না, তা নিয়ে জনমনে তীব্র সন্দেহ দানা বাঁধছে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগীদের দাবি, অতি দ্রুত এই অবৈধ হাসিল বাণিজ্য বন্ধ করা হোক এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে হাটের নিয়ন্ত্রণ সরাসরি নিজেদের হাতে নিয়ে সাধারণ মানুষকে হয়রানি থেকে মুক্ত করা হোক। অন্যথায় সরকারের এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পুরোপুরি নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির পকেটে চলে যাবে।
এই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।



