Homeকক্সবাজাররামুকোরবানির পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, সাংবাদিককে বিএনপি নেতা মাহিনের প্রকাশ্যে হুমকি

কোরবানির পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, সাংবাদিককে বিএনপি নেতা মাহিনের প্রকাশ্যে হুমকি

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে রামুর চাকমারকুল ইউনিয়নের কলঘর বাজারে বসা কোরবানির পশুর হাটে অতিরিক্ত হাসিল আদায়, প্রশাসনের নামে রশিদ ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলন সহ অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে জাতীয় দৈনিক যুগান্তর ও স্থানীয় পত্রিকা কক্সবাজার বার্তা এর রামু প্রতিনিধি সাংবাদিক হাসান তারেক মুকিমকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে রামু উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মেরাজ আহমেদ চৌধুরী মাহিনের বিরুদ্ধে।

সোমবার (২৫ মে) বিকেলে কলঘর বাজার পশুর হাটে সংবাদ সংগ্রহে গেলে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক হাসান তারেক মুকিম। তার দাবি, মাহিন প্রকাশ্যে বলেন, কলঘর পশুর হাট প্রশাসনের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকায় নেওয়া হয়েছে। তাই এ বিষয়ে কোনো ফেসবুক পোস্ট বা সংবাদ করা যাবে না। সাংবাদিকরা ইচ্ছেমতো নিউজ করতে পারবেন না।

এ সময় তার পাশে ছিলেন রামু ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শাহ জাহান ও রামু উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মির্জা নুরুল আবছার। উপস্থিত অন্য সাংবাদিকদের প্রতিও ইঙ্গিতপূর্ণ ভাষায় হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তথ্যসূত্রে জানা গেছে, রামুর চাকমারকুলের কলঘর বাজার পশুর হাট খাস কালেকশনের আওতায় পরিচালিত হওয়ার কথা এবং বিধি অনুযায়ী হাসিল আদায়ের দায়িত্ব উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে থাকার কথা। তবে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলা প্রশাসনের রশিদ বই ব্যবহার করে প্রায় দুই শতাধিক যুবদল নেতাকর্মী প্রকাশ্যে হাসিল উত্তোলন করছেন।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি গরুর ক্ষেত্রে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকেই ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছিল। যদিও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতি গরুর বিপরীতে নির্ধারিত হাসিল ১ হাজার টাকা। অতিরিক্ত আদায়ের ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও খামারিদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে বিকেল ৪টার দিকে দায়িত্বে থাকা
ফতেখাঁরকুল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার মাইকে ঘোষণা দিয়ে প্রতি গরুর জন্য ১ হাজার টাকা করে হাসিল আদায়ের কথা জানান। এর কিছুক্ষণ পরই সাংবাদিক হাসান তারেক মুকিমকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

একাধিক সূত্রের দাবি, কক্সবাজার জেলা যুবদলের শীর্ষস্থানীয় এক নেতার ছত্রচ্ছায়ায় মাহিন চৌধুরী ও স্থানীয় যুবদল নেতাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে হাসিল আদায়ের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রামু উপজেলা যুবদলের এক নেতা জানান, উপজেলা প্রশাসনকে ১০ লাখ টাকার বিনিময়ে মাহিন চৌধুরী গং পশুর হাটটি নিয়েছেন, যা সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূত।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলতি হাটে প্রায় ৫ হাজারের অধিক গরু বিক্রি হতে পারে। সে হিসেবে হাসিল আদায়ের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ১ কোটি টাকা।

সচেতন মহলের প্রশ্ন- বিধিমোতাবেক হাসিল আদায় হলে এ বিপুল অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা হওয়ার কথা থাকলেও তা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পকেটে যাচ্ছে কি না।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীস্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারি রাজস্ব বেহাতের পথ তৈরি করা হয়েছে। প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা ও কার্যকর তদারকির অভাবে অনিয়ম আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

এদিকে পশুর হাটকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। বাজার এলাকায় সড়কের দুই পাশে পশু ও ক্রেতা-বিক্রেতাদের ভিড়ে যান চলাচল ধীর হয়ে পড়ে, এতে সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগের বিষয়ে জানতে মেরাজ আহমেদ চৌধুরী মাহিনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান বলেন,আমি যেহেতু স্টেশনে নাই, খবর পেয়ে আমি এসিল্যান্ডকে চাকমারকুল পশু হাটে পাঠাই। সেখানে অলরেডি এসিল্যান্ড ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। আর সাংবাদিকদের বিষয়টি আমি স্টেশনে আসলে প্রয়োজনে সাংবাদিকদের সাথে বসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments