বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে স্থল মাইন বিস্ফোরণে ৩ জন উপজাতীয় যুবক নিহত হয়েছেন। আজ রোববার (২৪ মে) দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে ঘুমধুম ইউনিয়নের বাইশফাঁড়ি ৪২ নম্বর সীমান্ত পিলার সংলগ্ন তুমব্রু নোম্যান্সল্যান্ড এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের বালুক্যা পাড়ার বাসিন্দা মৃত ঞোমং তংচঙ্গ্যার ছেলে অক্যমং তংচঙ্গ্যা (৪০), মৃত উইমং তংচঙ্গ্যার ছেলে চিক্যং তংচঙ্গ্যা (৩৪) এবং সুনি অং তংচঙ্গ্যার ছেলে শৈফুচিং তংচঙ্গ্যা (৩২)। তারা সবাই স্থানীয় তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের যুবক।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার দুপুরে তিন যুবক সীমান্ত এলাকার ৪২ নম্বর পিলারের কাছাকাছি একটি কলাবাগানে কাজ করতে যান। কাজ করার একপর্যায়ে মিয়ানমার সীমান্তরক্ষীদের পুতে রাখা একটি স্থল মাইন হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অংক্যমং তঞ্চঙ্গ্যা নামের এক যুবক প্রাণ হারান। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে সঙ্গে থাকা অপর দুই যুবক তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে গেলে সেখানে পুতে রাখা আরেকটি মাইনের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই বাকি দুজনেরও মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার পুলিশ এবং বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে রওনা হন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বিজিবির রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মহিউদ্দিন আহমেদ জানান, সীমান্ত এলাকায় মাইন বিস্ফোরণে ৩ জন নিহত হওয়ার খবর তারা পেয়েছেন। বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধারসহ পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে, এই ঘটনার পর থেকে স্থানীয় সীমান্তবর্তী বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী আন্তর্জাতিক আইন অমান্য করে নোম্যান্সল্যান্ড ও সীমান্ত রেখা ঘেঁষে নিয়মিত মাইন পুতে রাখছে, যার শিকার হচ্ছেন সাধারণ বাংলাদেশিরা।



