শাহারিয়া নাজিম জয়, রামু।
কক্সবাজারের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসাসেবার মানে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এসেছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসক ও নার্সদের আন্তরিকতায় এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ভরসার প্রতীক হয়ে উঠেছে এই সরকারি হাসপাতালটি। বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে বর্তমানে এখানে উন্নত চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতারা।
সম্প্রতি হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সেবার মান নিয়ে তারা অত্যন্ত সন্তুষ্ট। বিশেষ করে সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালটিতে নিবিড় পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক হাম (Measles) আক্রান্ত রোগী তাঁর অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে বলেন, “রামু হাসপাতালের পরিবেশ এখন অনেক সুন্দর। আমরা এখানে খুব ভালো চিকিৎসা পাচ্ছি। ডাক্তার ও নার্সরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন এবং সরকারি ওষুধও ঠিকমতো পাওয়া যাচ্ছে।”
হাসপাতালের বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, আগের তুলনায় হাসপাতালের সার্বিক চিত্র এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আগে যেখানে দালালদের দৌরাত্ম্য, নোংরা পরিবেশ কিংবা চিকিৎসকের সংকটে রোগীরা ভোগান্তির শিকার হতেন, এখন সেখানে সুশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে।
চিকিৎসা নিতে আসা এক স্থানীয় ব্যক্তি বলেন, “আগের হাসপাতালের চাইতে এখনকার ব্যবস্থা অনেক উত্তম। ডাক্তার দেখানোর জন্য এখন আর দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয় না। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা থেকে শুরু করে সব দিক দিয়েই হাসপাতালের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে।”
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, রামু উপজেলার একটি বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসার একমাত্র আশ্রয়স্থল এই হাসপাতালটি। চিকিৎসাসেবার এই ধারা অব্যাহত থাকলে এলাকার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো সামান্য চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে গিয়ে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হওয়া থেকে রক্ষা পাবে।
এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে তারা প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের স্বাস্থ্য বিভাগের দিকনির্দেশনায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতায় রামু হাসপাতালকে একটি মডেল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রূপান্তর করাই তাদের মূল লক্ষ্য।



