রবিউল হোছাইন বাবু :
কক্সবাজারের রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের পূর্ব মেরংলোয়া এলাকায় দিন-রাত প্রকাশ্যে চলছে সর্বনাশা মাদক ইয়াবার রমরমা বেচাকেনা। স্থানীয় বাসিন্দা ফরিদ আহমদের ছেলে আবুল কাশেম দীর্ঘদিন ধরে এই মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছে। একাধিকবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়লেও, প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে এই মাদক কারবারি। যেন তাকে থামানোর কেউ নেই।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কাশেম এখন আর একা নয়, বরং একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেট তৈরি করেছে। ইয়াবা বেচাকেনা ও ক্রেতাদের হাতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সে দৈনিক নির্দিষ্ট বেতনে কয়েকজন তরুণ ও যুবককে কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। এই বেতনভুক্ত যুবকরাই সার্বক্ষণিক কাশেমের বাড়ির আশেপাশে মাদক সরবরাহের কাজ তদারকি করে।
স্থানীয়রা জানান, কাশেমের বাড়ির সামনের চিত্র দেখলে মনে হয় কোনো ব্যস্ত স্টেশন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সেখানে সারি সারি টমটম, ইজিবাইক ও অটো-মিশুক গাড়ির লাইন লেগে থাকে। চালক ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা মাদকসেবীরা সেখানে প্রকাশ্যেই ইয়াবা কেনাবেচা করে। এতে এলাকার যুবসমাজ চরম নৈতিক অবক্ষয়ের মুখে পড়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় এলাকাবাসী বেশ কয়েকজন মাদকসেবীকে ইয়াবাসহ হাতে-নাতে আটক করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এবং সাংবাদিকদের হাতে আসা ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, আটককৃত মাদকসেবীরা অকপটে স্বীকার করছে যে তারা এই ইয়াবা আবুল কাশেমের কাছ থেকে সেবনের জন্য কিনেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এলাকার লোকজনের মনে প্রশ্ন বার বার ধরা পড়ার পরও কাশেম কীভাবে এত নির্বিঘ্নে এই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে? স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝামেলাহীনভাবে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে রামু থানার একজন ‘কথিত’ উপ-পরিদর্শককে দীর্ঘদিন ধরে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের টাকা মাসোহারা দিয়ে আসছে কাশেম। পুলিশের এই অসাধু কর্মকর্তার আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণেই সে প্রতিনিয়ত ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, কাশেম একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। তাকে এর আগেও একাধিকবার মাদক মামলায় আমরা চালান করেছি। কিন্তু আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে সে আবারও একই অপরাধে লিপ্ত হয়। সে মাদক বিক্রি করে এলাকার যুবসমাজ ধ্বংস করছে এই তথ্য আমাদের কাছেও আছে। তাকে অচিরেই আইনের আওতায় আনতে আমরা বিভিন্ন কৌশল ও পরিকল্পনা করছি।
থানার কথিত এসআই কর্তৃক কাশেমকে আশ্রয় দেওয়া এবং মাসোহারা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে ওসি দৃঢ়তার সাথে বলেন, মাদককারবারীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখাবে এমন কোনো সদস্যের পুলিশ বাহিনীতে থাকার দরকার নেই। এই ধরনের সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ পেলে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব এবং তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে এই চিহ্নিত মাদক কারবারি কাশেম, তার দৈনিক বেতনভুক্ত সহযোগী এবং নেপথ্যের আশ্রয়দাতাদের দ্রুত গ্রেফতার করে মেরংলোয়া এলাকাকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
আগামী পর্বে চোখ রাখুন
কে এই কথিত এসআই? কাশেমের মাদক সাম্রাজ্যের নেপথ্যে থাকা রামু থানার সেই অসাধু কর্মকর্তার নাম, পরিচয় ও তার মাসোহারা আদায়ের আদ্যোপান্তসহ আরও অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য নিয়ে অনুসন্ধানের বিস্তারিত আসছে আগামী ২য় পর্বে। চোখ রাখুন রামুকন্ঠে,,,


