Homeকক্সবাজাররামুর রাখাইনদের শতবর্ষী কাঠের বাড়ি: হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যের স্মৃতি

রামুর রাখাইনদের শতবর্ষী কাঠের বাড়ি: হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যের স্মৃতি

রায়হান উদ্দিন মাহিম :

সাগর, সবুজ পাহাড় আর বৌদ্ধ বিহারের অপূর্ব সমন্বয়ে কক্সবাজারের পার্শ্ববর্তী উপশহর রামু। এই জনপদে এখনো টিকে আছে রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী কাঠের বাড়ি। বার্মাটিক কারুকার্যে নির্মিত এসব ঘরের প্রতিটি স্তম্ভে লুকিয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের গল্প।

রাখাইন সম্প্রদায়ের জীবনযাত্রা ও ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা এসব কাঠের ঘর এখন আধুনিকতার চাপে হারিয়ে যেতে বসেছে। সময়ের পরিবর্তনে অনেকেই ঝুঁকছেন পাকা ভবনের দিকে। তবে কেউ কেউ এখনো পূর্বপুরুষদের রেখে যাওয়া ঐতিহ্য আঁকড়ে ধরে বসবাস করছেন।

ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের হাইটুপি গ্রামের শতবর্ষী একটি কাঠের বাড়ি স্থানীয়দের কাছে পরিচিত ‘দারোগা বাড়ি’ নামে। পুরোনো এই বাড়িটিতে এখনো বসবাস করছেন এক বৃদ্ধা। তার ছেলে-মেয়েরা দেশের বাইরে থাকলেও তিনি ছাড়েননি পূর্বপুরুষদের স্মৃতি বিজড়িত এই বাড়ি।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রামু উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একসময় প্রচুর সংখ্যক রাখাইন কাঠের বাড়ি থাকলেও বর্তমানে টিকে আছে হাতেগোনা কয়েকটি। তাদের মতে, এসব ঘর শুধু বসবাসের স্থান নয়, এগুলো একটি জাতিগোষ্ঠীর ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই কাঠের ঘর সংরক্ষণ মানে শুধু স্থাপনা রক্ষা নয়—রক্ষা করা একটি সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব ও ঐতিহ্য। তাই এসব দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে ঘোষণা করে সরকারি উদ্যোগে সংরক্ষণ ও সংস্কারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও মনে করেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী এসব কাঠের বাড়ি রক্ষায় সরকারের বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

স্থানীয় ইতিহাসবিদ শিরুপন বড়ুয়া বলেন, এসব স্থাপনা সংরক্ষণে প্রয়োজন হলে দেশের বাইরে থেকেও উপযুক্ত কাঠ সংগ্রহ করে রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। কারণ এগুলো শুধু ঘর নয়, ইতিহাসের জীবন্ত দলিল।

রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জিল্লুর রহমান জানান, রাখাইনরা কক্সবাজারের আদি অধিবাসী। রামুতে এখনো তাদের বসবাস রয়েছে। তাদের ঐতিহ্যবাহী কাঠের ঘরগুলো বর্তমানে পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, রাখাইন সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে সংরক্ষণের বিষয়ে কোনো আবেদন করা হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।

ইতিহাস ও ঐতিহ্যের স্মারক বার্মাটিক কাঠের তৈরি এসব দৃষ্টিনন্দন বাড়ি সংরক্ষণ করা না গেলে অচিরেই হারিয়ে যাবে রাখাইন সম্প্রদায়ের শত বছরের এই স্থাপত্য ঐতিহ্য।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments