কক্সবাজারের রামুতে ডিসি ক্যামব্রিয়ান স্কুল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রাখা, তালা ভেঙে প্রতিষ্ঠান দখল এবং প্রধান শিক্ষককে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও স্থানীয় জামায়াত নেতা জিয়াউর রহমান (জিয়া)-র বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয়, উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে শিক্ষা অফিসার তদন্তে গেলে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদেরও নানারকম হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির অচলাবস্থা কাটানোর জন্য এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনা করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইউনুস সম্প্রতি রামু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহোদয়ের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগের পরিপ্রক্ষিতে ইউএনও মহোদয়ের নির্দেশে রামু উপজেলা শিক্ষা অফিসার সরজমিনে তদন্তের জন্য স্কুল পরিদর্শনে যান।
শিক্ষা অফিসারের উপস্থিতিতে জামায়াত নেতা জিয়াউর রহমান বিদ্যালয়টি দ্রুত চালু করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেখান থেকে চলে যান। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি বিদ্যালয়টি চালু করার কোনো উদ্যোগ নেননি। উল্টো, প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ইউনুসকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং তাকে নিয়মিত হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর মধ্যেই বিদ্যালয়টির তালা ভেঙে অবৈধভাবে তা দখল করার কিছু স্থিরচিত্র ও প্রমাণ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের হাতে এসেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এভাবে জিম্মি করে রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল।
এদিকে, সরকারি কর্মকর্তার তদন্ত চলাকালীন সময়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য শিক্ষা অফিসারের সাথে সংবাদকর্মীরা ঘটনাস্থলে গেলে, অভিযুক্ত জামায়াত নেতা জিয়াউর রহমান ও তার লোকজন সাংবাদিকদের ওপর চড়াও হন এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দিয়ে নানারকম হুমকি-ধমকি প্রদান করেন।
সাংবাদিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়া ও সত্য প্রকাশে বাধা দেওয়ার এই ঘটনায় রামুর স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রামু উপজেলা প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন উপজেলার সর্বস্তরের জনগণ।


