হাসান তারেক মুকিম :
কক্সবাজারের রামুতে ৪০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক বিএনপি নেতার স্ত্রী ও এক রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আটক নারী হলেন রামু উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি নজরুল ইসলামের স্ত্রী ছালেহা বেগম (৪৫)। অপর আটক ব্যক্তি উখিয়ার থাইংখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্প-১৩ এর বাসিন্দা মোহাম্মদ হাসিম ওরফে ওসমান (৩৫)।
বুধবার (২০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামুর কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের হাজীরপাড়ায় নজরুল ইসলামের বাড়িতে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এসময় বাড়ি থেকে ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয় এবং ছালেহা বেগম ও তার সহযোগীকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় আরও ৩ থেকে ৪ জন মাদক কারবারি পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ছালেহা বেগমের স্বামী নজরুল ইসলাম স্থানীয় বিএনপির সহ-সভাপতি এবং সীমান্ত চোরাচালান সিন্ডিকেটের অন্যতম ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে মিয়ানমার সীমান্ত ঘিরে গড়ে ওঠা ইয়াবা ও চোরাচালান নেটওয়ার্কের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে একাধিক মামলাও রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক সূত্র বলছে, কক্সবাজার সীমান্তজুড়ে এখনও সক্রিয় রয়েছে শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, রাজনৈতিক পরিচয়ধারী সুবিধাভোগী এবং সীমান্তভিত্তিক চোরাকারবারিদের সমন্বয়ে পরিচালিত হচ্ছে এসব নেটওয়ার্ক।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে, নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে মিয়ানমার সীমান্ত থেকে গরুর চালানের আড়ালে ইয়াবা ও স্বর্ণের চালান আনা হতো।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র দাবি করেছে, সাম্প্রতিক অভিযানের ঘটনায় দায় এড়াতে এবং মামলা থেকে নিজের নাম বাদ দিতে তিনি মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
তবে এ বিষয়ে নজরুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকেও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, আটক দুইজন ও পলাতকদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। একইসঙ্গে চক্রটির অন্য সদস্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



